ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের কাছে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ সাত অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ইতালীয় কোস্টগার্ড।
ইতালীয় কোস্টগার্ড জানায়, ১৭ অক্টোবর নৌকাডুবির পর টানা কয়েক দিনের উদ্ধার অভিযানে তারা একজন পুরুষ, পাঁচজন নারী এবং এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
তবে নিহতদের পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কোস্টগার্ড আরও জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কয়েকবার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে।
১৭ অক্টোবর রাতে লাম্পেদুসার উপকূলে পৌঁছানোর সময় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়। ঘটনার পরপরই ইতালীয় কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌকাটিতে ৩০ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযানে ১১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে চারজন শিশু ছিল। এই শিশুরা অভিভাবক ছাড়া একাই নৌকায় উঠেছিল। ঘটনার দিন একজন গর্ভবতী নারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
জাতিসংঘের শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ইতালি প্রতিনিধি নিকোলা দেল’আর্চিপ্রেতে ১৯ অক্টোবর জানান, সমুদ্রে দুই দিন ভেসে থাকার পর ১৭ অক্টোবর নৌকাটি ডুবে যায়। জীবিত উদ্ধার হওয়া ১১ জন এবং উদ্ধারকৃত মরদেহ লাম্পেদুসায় নিয়ে আসা হয়েছে।
অভিবাসী উদ্ধারে কাজ করা এনজিও ‘অ্যালার্ম ফোন’ জানিয়েছে, তারা ইতালি ও মাল্টার কর্তৃপক্ষকে নৌকাটির বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু উদ্ধারকাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে।
সংস্থাটি এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছে, কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আরেকটি দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারছি না।
টিউনিসিয়ার উপকূল থেকে লাম্পেদুসার দূরত্ব মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার। উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে লাম্পেদুসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রধান গন্তব্য।
জাতিসংঘের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানায়, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৩২,৭০০-এর বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।



















































































